
জাহিদুর রহমান বকুল:
স্মৃতি, ইতিহাস ও উন্নয়নের এক অনন্য মেলবন্ধনে আগামী বুধবার গাজীপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সফরকে ঘিরে পুরো গাজীপুর জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উচ্ছ্বাসের আমেজ।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬। আগামীকাল সকালে সফিপুর আনসার একাডেমিতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় কুচকাওয়াজ ও জাতীয় সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। এসময় বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আনসার একাডেমির অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় এক ঐতিহাসিক উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করবেন। সেখানে তিনি ‘জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ ধরনের বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে এটিই প্রথম। দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ খাতে এটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর আবেগ, ইতিহাস ও পারিবারিক স্মৃতি। গাজীপুরের মাটিতে মিশে আছে তাঁর শৈশবের নানা স্মৃতি ও অনুভূতি।
একই সঙ্গে এ জনপদে প্রোথিত রয়েছে তাঁর পিতা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর কর্মময় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে গাজীপুরকে ঢাকা জেলা থেকে আলাদা করে নতুন মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে সেই ঐতিহাসিক মহকুমা ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা—উন্নয়ন, ইতিহাস ও আবেগের এই সংযোগ আগামী দিনে জেলার অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।