
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর সাতাইশ চৌরাস্তা সংলগ্ন ধরপাড়া এলাকায় দেশের প্রথম “জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট”-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন এবং পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যেই এ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাতাইশ চৌরাস্তা সংলগ্ন ধরপাড়া মৌজার প্রায় ৮ দশমিক ২০ একর জমির ওপর নির্মিত হবে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন এবং ৬ তলা বিশিষ্ট আবাসিক হোস্টেলের তৃতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। এ বাস্তবতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তুলতে এ ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখানে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সাড়া প্রদান ব্যবস্থা, জলবায়ুর প্রভাব মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এটি কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, ইনস্টিটিউটটি চালু হলে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।