
জাহিদুর রহমান বকুল:
গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল (ভূমি) অফিসে সেবার গতি ও মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং জনগণবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে এখন ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ সেবা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সম্পন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে ই-নামজারি কার্যক্রমে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন—যেখানে আগে গড়ে ৯০ দিন লাগতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৮ দিনে।
২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট যোগদানের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহেরুল হক টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সার্বিক কার্যক্রমে গতি আনতে একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে গত ১০ মাসে ১৫০টির বেশি বিবিধ মামলা (মিসকেস) নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রায় ৫০টি সীমানা নির্ধারণ মামলা সমাধান করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি নামজারি ও জমাভাগ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে এবং ৪ একরের অধিক সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত বেকারিতে জরিমানা এবং বিষাক্ত আফ্রিকান মাগুর মাছ চাষ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ করতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের মামলার শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রবিবার জনসাধারণের সাক্ষাৎকার, সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মিসকেস ও নামজারি আপত্তি শুনানি এবং বৃহস্পতিবার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ফলে দীর্ঘদিনের জমে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে।
ভূমি অফিসে আগত সেবাগ্রহীতারা জানান, এখন মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে শুনানির তারিখ জানানো হয়, ফলে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সহজেই সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত হয়েছে।
গাছা এলাকার বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তার জানান, অনলাইনে আবেদন করার মাত্র ২৮ দিনের মধ্যেই তিনি নামজারি সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা অতীতে কল্পনাও করা যেত না।
টঙ্গী পৌর, কাশিমপুর ও গাছা ভূমি অফিসসহ পুরো সার্কেলের অধীনস্থ এলাকায় সেবা সহজীকরণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সামগ্রিকভাবে, টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল (ভূমি) অফিস বর্তমানে দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে গড়ে উঠছে, যা দেশের অন্যান্য ভূমি অফিসের জন্যও একটি অনুকরণীয় মডেল হতে পারে।