
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, তথ্য গোপন ও কৃষক হয়রানির অভিযোগে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে তিন মাসের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন নামে দাওয়াতপত্র দেওয়া এবং অর্থ দাবি করার অভিযোগ তুলেছেন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি রাজধানী টেলিভিশনের অনুসন্ধানী দল ‘ক্রাইম অ্যালার্ট’-এর বরাতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনসহ কয়েকটি গনমাধ্যমে গাজীপুরের কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে ধান সংগ্রহের হিসাব নিয়ে অসংগতি, প্রকৃত কৃষকদের হয়রানি, তালিকায় ভুয়া কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্তি এবং সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অনুসন্ধানী দলের সাংবাদিকেরা গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাঁদের আটকে রাখা, মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া, ফোন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
তবে প্রকাশিত এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সংবাদে উপস্থাপিত বক্তব্য ও অভিযোগগুলো প্রকৃত ঘটনা এবং দাপ্তরিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁদের মতে, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচ্য প্রতিবেদক এক মাসের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন নামে ওই কার্যালয়ে দুটি পৃথক দাওয়াতপত্র দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি অর্থ দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। কর্মকর্তাদের আরও দাবি, প্রতিবেদক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের পরিচয় দিয়েছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের আটকে রাখা, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া, ফোন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং প্রাণনাশের হুমকির যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ পর্যালোচনা জরুরি।
অন্যদিকে, অনুসন্ধানী দলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কী কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রকাশের আগে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ধান সংগ্রহের হিসাব যাচাইয়ের দাবি
প্রকাশিত প্রতিবেদনে শ্রীপুর উপজেলায় ধান সংগ্রহের পরিমাণ, তালিকা এবং সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অসংগতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। কয়েকজন কৃষক সরকারি দপ্তরে ধান বিক্রি করেননি বলে দাবি করেছেন—এমন বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ধান সংগ্রহের রেজিস্টার, কৃষকদের তালিকা, ক্রয়সংক্রান্ত নথি, বরাদ্দ ও বাস্তব অগ্রগতির হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকাশিত সংবাদটির অভিযোগ পুনরায় যাচাই করে তাঁদের বক্তব্য যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংবাদে কোনো তথ্য অসত্য বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও প্রতিবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন।