
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের শান্তি বজায় রেখে উৎপাদন চালু রাখা ও দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বানে ” শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের- গাজীপুর” এর সংবাদ সম্মেলন।
গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির শান্তিপূর্ণ পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে যারা পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, কারখানা ভাংচুর করেছে তারা সবাই রাজনৈতিক অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ৩৫টি শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ গাজীপুর, নামের একটি সংগঠন । একই সঙ্গে তারা সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনকে স্বাগত জানিয়ে একে বিজয় হিসাবে আখ্যায়িত করে এর প্রতি আস্থা রাখতে এবং কাল থেকে কাজে ফেরার অনুরোধও জানিয়েছেন।
গত চারদিন ধরে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসণ এবং শিল্প ও শ্রমিকের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ আহ্বান জানান তারা।
আয়োজকরা গার্মেন্টস সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারকে স্বাগত জানান।
লিখিত বক্তব্যে সাংগঠনের সভাপতি তমিজ উদ্দিন তনু বলেন,
দেশের অর্থনীতি ও শ্রমিকের জীবিকা রক্ষায় কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে।
পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে কোনো কুচক্রী মহল বা বহিরাগতদের অপচেষ্টা ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সকল শ্রমিক ভাই-বোনদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সকল শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান আপনারা কর্মস্থলে ফিরে স্বাভাবিক উৎপাদন কর্মকাণ্ড চালু রাখুন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শফিউল আলম, সরকার কর্তৃক গঠিত মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই ন্যায্য সমাধান সম্ভব।
তিনি গার্মেন্টস সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারকে স্বাগত জানান।
তিনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
শ্রমিকদের ওপর কোনো ধরনের গ্রেফতার, মামলা বা দমন-পীড়ন না চালিয়ে, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পোশাক শিল্প শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শফিউল আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদের গাজীপুর জেলার সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোকন মিয়া, বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন জুয়েল, জাতীয় কারিগর ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া পারভিন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর গাজীপুর জেলার সহ-সভাপতি মোঃ আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তারা আরো বলেন, যে শ্রমিকদের নাম করে বিভিন্ন কারখানায় যে ভাঙচুর করা হচ্ছে তার সাথে শ্রমিকরা কোনভাবেই জড়িত নয়। বহিরাগত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলাসহ এসব ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িত।
যে সকল শ্রমিক কর্মস্থল থেকে বের হয়ে এসেছে তাদেরকে আগামীকাল বুধবার থেকেই কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
এদিকে আজ মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগরীর তোগরা বাইপাস মোড়ে,নাওজোরসহ জেলার কয়েকটি স্থানে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাঁধার মুখে তারা ছএভঙ্গ হয়ে যায়।
গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরিল করিম রনি, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারও বিপুল নেতাকর্মী নিয়ে সড়কে যাএীসাধারণের হয়রানি বন্ধে ও শান্তি বজায় রাখতে রাজপথে ছিলেন। তারা সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। সরকার তাদের দাবি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু একটি পলাতক কুচক্রী মহল যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শ্রমিকদের উস্কে দিচ্ছে।