
মোঃ নোমান ইসলাম বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান বীজ “বায়ার অ্যারাইজ এজেড ৬৫৮৫ এসটি (Arize AZ 6585 ST)” পরিচিতকরণ ও আধুনিক চাষাবাদ প্র প্রযুক্তি বিষয়ে এক কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিক ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উন্নত মানের চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের পুইনন্দা গ্রামে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশেষজ্ঞ বক্তব্য রাখেন বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বায়ার কোম্পানির সিসিএম কৃষিবিদ রাবেয়া খাতুন, সিসিএম সিড কৃষিবিদ সঞ্জিত সরকার, লিগ্যাল অফিসার আব্দুল জলিল, সিসিএমসি মোজাম্মেল হক, উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা একরামুল এবং বিরামপুর পুরাতন বাজারস্থ মমিন বীজ ভান্ডারের প্রোপাইটর মমিনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় বলেন,“বর্তমান সময়ে কৃষকদের কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে উন্নত ও আধুনিক জাতের বীজ ব্যবহারের বিকল্প নেই। বায়ার অ্যারাইজ এজেড ৬৫৮৫ এসটি ধানটি আগাম ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় কৃষকরা একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল আবাদ করার সুযোগ পাবেন। সঠিক পরিচর্যা ও পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।
সভায় জানানো হয়, “ বায়ার অ্যারাইজ এজেড ৬৫৮৫ এসটি ” একটি উন্নত হাইব্রিড ধান জাত, যা মাত্র ১৪০ থেকে ১৪৫ দিনের মধ্যেই পেকে যায়। সঠিক পরিচর্যা ও সুষম সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে একর প্রতি প্রায় ১০০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব ।
ধানটির অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট বা পাতাপোড়া রোগ সহনশীল। গাছ শক্ত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না এবং প্রতি ছড়ায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৭০টি পর্যন্ত ধান পাওয়া যায়। দানা মাঝারি চিকন ও বাসমতি টাইপ হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা ভালো রয়েছে। এছাড়াও জাতটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে লম্বা ও চিকন চাল, লম্বা শীষ, ঘন গাঁথুনি, অধিক ফলন এবং ধান ঝরে না পড়া। উপশি জাতের তুলনায় এর ফলন অনেক বেশি বলেও সভায় জানানো হয়।
বক্তারা আরও জানান, আসন্ন আমন মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকদের মাঝে নতুন হাইব্রিড জাত Ò“Arize 2241 ST” এবং “Arize 16019” নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে “Arize 16019’ জাতটি কারেন্ট পোকা সহনশীল হওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে আশাব্যঞ্জক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃষক-কৃষাণীরা জানান, ভালো ফলন ও উন্নত মানের ধান উৎপাদনের আশায় তারা আগ্রহ নিয়ে এ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ উন্নত বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের অধিক লাভবান করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন কৃষক-কৃষাণীরা ।
এসময় এলাকার প্রায় ২০০ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন।“বায়ার অ্যারাইজ এজেড ৬৫৮৫ এসটি ” ধানের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয়।