গাজীপুর সদর মেট্রো থানাধীন বাঙ্গালগাছ বাজারে মুজিবুর রহমানের আড়তে ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। বৃহস্পতিবার ১১টায় জিএমপি প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এসময় গণমাধ্যমকে ডিসি আবু তোরাব মো. সামসুর রহমান জানান, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে দিবাগত রাত ২ ঘটিকায় সদর মেট্রো থানাধীন বাঙ্গালগাছ বাজারে মুজিবর রহমান এর চাউলের আড়তে ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত দল, বাজারের নিরাপত্তা প্রহরীকে বেধে মারধর করে আড়তের তালা ভেঙ্গে দুটি নাম্বার প্লেট বিহীন পিকআপ এ করে ২৫ কেজি ও ৫০ কেজির বস্তা মিলিয়ে ২৩৩ বস্তা চাউল ডাকাতি নিয়ে যায়। যার সর্বমোট ওজন ৯১৫০ কেজি।
মামলাটি তদন্তকালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) রেজওয়ান জাহামেদ পিপিএম, এর নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সদর মেট্রোথানা ও কোনাবাড়ী মেট্রোথানার যৌথ অভিযানে ডাকাতিতে প্রতক্ষ্য ভাবে জড়িত বশির (৪৫) নামে এক ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ডাকাত বশিরের দেখানো মতে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি ও ভুয়াপুর থানা এলাকা হতে রাজু ও মিজানুর নামে আরো ২ জনকে ডাকাতির মালামাল ক্রয় বিক্রয়কারীসহ প্রতিটি ২৫ কেজি প্লাস্টিকের বস্তায় মোট ২২০ বস্তা চাউলউদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ আন্তঃ জেলা ডাকাত চক্রের সাথে জড়িত থেকে বিভিন্ন জেলায় চাউল ও বিভিন্ন মালামাল ডাকাতি করে থাকেন। মামলাটি তদন্তাধীন আছে ও অন্যান্য ডাকাতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত মোঃ বশির (৪৫), পিতা-মৃত রফিক ব্যাপরী, মাতা- নূরজাহান, সাং-আইরা মোহন কান্দাপাড়া, থানা-সিরাজগঞ্জ সদর, জেলা-সিরাজগঞ্জ বর্তমানে আমবাগ, কোনাবাড়ী, জিএমপি, গাজীপুর। মোঃ রাজু মোল্লা (৩০), পিতা-আলী আকবর, মাতা-মোছা: রাজিয়া, সাং-কুরশিলা নয়াপাড়া, থানা-কালিহাতি, জেলা-টাঙ্গাইল। মোঃ মিজানুর রহমান (৩০), পিতা-মোঃ আব্দুর রহমান, মা- মোছাঃ নাজেরা আক্তার, সাং-সিংগাইড মাওলানা বাড়ী, থানা-কালিহাতি, জেলা-টাঙ্গাইল। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো একটি মামলার বিষয় গাজীপুরে সদর মেট্রো থানা পুলিশের রাত্রিকালীন টহল ডিউটি কালিন সময় ১টি পিক আপ গাড়িতে অটো রিক্সার উঠানোর সময় যাত্রীবেশী ৩ জন ছিনতাইকারী কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এক পর্যায়ে অটো রিক্সার পিছনে লেখা মোবাইল নাম্বারে ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে অটোরিক্সার মালিক হুমায়ূন কবির জানান যে , তার ড্রাইভারকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে ভূরুলিয়া বিমানের টেক এলাকা থেকে অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরবরর্তীতে মামলার বাদী ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে অটোরিক্সা শনাক্ত করে। পরে পুলিশ ছিনতাইকৃত অটোরিক্সা,ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাপাতি ও১টি পিকআপ উদ্বার করে।
গ্ৰেফতারকৃতদের নাম ও ঠিকানা ১। আকাশ (১৫) পিতা তোতা মিয়া,গ্ৰাম শেরপুর, থানা শ্রীবরদী, জেলা শেরপুর ২। সাজ্জাদ (১৮)পিতা জাকির,সাং বাঘলবাড়ী,থানা _সদর, জিএমপি,৩।সোহান(১৫)পিতা ফারুক মিয়া, সাং বাঘলবাড়ী, থানা সদর, জিএমপি, গাজীপুর।
এবিষয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের ১দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছিনতাই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্ৰেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আবু তোরাব মোঃ সামছুর রহমান, ডিসি (উত্তর), রেজওয়ান আহমেদ (পিপিএম)এবিসি(উত্তর), ফাহিম আমজাদ,এসি সদর জোন, জিয়াউল ইসলাম,ওসি,সদর মেট্রো থানা।