
জাহাঙ্গীর আলম (ব্যুরো প্রধান) কাপাসিয়া গাজীপুরঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। ১২ জুলাই রোববার দিনব্যাপী সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের লজিস্টিকস এরিয়ার ঢাকা সেনানিবাস এর আয়োজনে কাপাসিয়ার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়।
রাজেন্দ্রপুর স্টেশন সদর দপ্তরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এলাকার প্রায় এক হাজার দুস্থ ও অসহায় নারী-পুরুষদের উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। জটিল রোগিদের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব না হলে, পরবর্তীতে তাদের রাজেন্দ্রপুর সিএমএইচ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।
সকাল থেকেই মেডিকেল অফিসারের তত্ত্বাবধানে সেবা প্রার্থী রোগিদের রোগের রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরে রোগিদের বৃত্তান্ত শুনে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে রোগের ধরন বুঝে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করা হয়।
এর আগে গত শনিবার এ এলাকায় মাইকিং করে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার বিষয়টি অবহিত করা হয়। সেনা সদস্যদের তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খল ভাবে চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোগিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক লাইনে সেবা এবং ওষুধ প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় তারা সর্বদা জনগণের পাশে থেকে সেবা প্রদান করে আসছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। কাপাসিয়ায় চলমান গ্রীষ্মকালীন (৫ থেকে ১৪ জুলাই) ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি হিসাবে ঢাকা সেনানিবাসের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান (এসজিপি, এসইউপি, এনডিসি, এইচডিএমসি) মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় রাজেন্দ্রপুর স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার নাসির উপস্থিত ছিলেন। জিওসি মহোদয় মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে অপেক্ষেয়মান রোগি এবং এলাকাবাসীর সাথে খুবই আন্তরিকতার সাথে কথা বলেন। সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান। জটিল রোগিদের জরুরি প্রয়োজনে সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে রোগিদের সাথে আগত শিশুদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে নিজ হাতে বিস্কুট ও চকোলেট উপহার দেন।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও বিনা মূল্যে ওষুধ পেয়ে তাঁরা উপকৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান তাঁরা।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, দেশের জনগণের পাশে থেকে মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।