
জাহাঙ্গীর আলম (ব্যুরো প্রধান) কাপাসিয়া, গাজীপুর ঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মারিয়া আক্তার নামে এক নারী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক স্বামীর নির্যাতনে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এক ছেলে সন্তানের জননী মারিয়া আক্তার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুবনেরচালা গ্রামের মৃত জসিমউদ্দিনের ছেলে মোঃ আতিক ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে বাড়ির কাছ থেকে জোরপূর্বক চোখমুখ বেধে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। আতিক ওই দিন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে পরের দিন নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মারিয়ার পিতা তার স্বজনদের নিয়ে আতিকের বাড়িতে গিয়ে সবকিছু শুনে স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বিয়ে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু তখন মারিয়ার বয়স ১৫ বছর হওয়ায় সরকারিভাবে কাবিন রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। বিয়ের এক বছর পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এর কিছুদিন পর থেকেই আতিক নানা অজুহাতে রাতের বেলা বাড়ির বাহিরে সময় কাটিয়ে সকালবেলা বাড়ি ফিরত। খবর নিয়ে মারিয়া জানতে পােও, সে রাতের বেলা মাদক সেবন করে অন্য নারীদের নিয়ে রাত কাটায়। এ নিয়ে আপত্তি জানালে সে মারিয়াকে মারপিট করতো এবং ভালো না লাগলে তাকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যেতে পরামর্শ দিত। এভাবে আতিকের বেপরোয়া আচরণ ও নির্যাতন সইতে না পেরে মারিয়া ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে ডিভোর্স দিয়ে শিশু সন্তানকে নিয়ে পিতার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে আসার পর থেকে আতিক প্রায় সময়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে মারিয়া, তার পিতা—মাতাসহ আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতজনদের নিয়ে নানা অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রচার করে আসছে এবং আতিক তাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৯টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এমনকি মারিয়া নিজের ও সন্তানের খরচাদি মিটানোর জন্য বিউটি পার্লারের কাজ শিখে কাপাসিয়া বাজারে একটি বিউটি পার্লার স্থাপন করলে আতিকের নানা হুমকি ও ভয়ভীতিতে প্রায় তিন মাস আগে সেটিও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তিনি অভাব অনটন, নিরাপত্তাহীনতা ও তাকে নিয়ে ফেসবুকে আতিকের অশালীন প্রচারণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এমতাবস্থায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া বর্তমানে কোনো উপায় নেই বলে দাবি করেন মারিয়া। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তার শিশু সন্তান, মা—বাবা ,দাদীসহ স্বজনরা।
এ বিষয়ে মোঃ আতিকের বক্তব্য জানতে তার ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।