নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেজওয়ান খান ওরফে শিমু (৩২) নামের এক যুবককে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব শক্রতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে প্রথমে অজ্ঞাত স্থানে বেদম মারপিট করে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর মৃত্যু হয়েছে ভেবে গভীর রাতে তাদের বাড়ি পাশে সদ্য লাগানো একটি আমন ধানক্ষেতের কাঁদা পানির মধ্যে ফেলে রেখে যায় তাকে। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রোববার গভীর রাতে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর চড়কপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর পাঠানপাড়ার সাবেক ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান খাঁনের দ্বিতীয় পুত্র রেজওয়ান খান ওরফে শিমু (৩২)। দুই সন্তানের জনক শিমু পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক। তিনি প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন গতকাল রোববার রাতেও বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে গভীর রাতে তাদের বাড়ি সংলগ্ন কদমতলী – পাঠানপাড়া কাঁচা রাস্তা থেকে আনুমানিক একশ’ গজ দূরে কৃষক নুরুল আমিনের সদ্য লাগানো একটি আমন ধানক্ষেত থেকে মানুষের গোঙানির শব্দ ভেসে আসে। এ সময় ওই সড়কের পাশের দুই যুবক সেখানে গিয়ে শিমুকে কাঁদা পানির মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার পুরো শরীরে কাঁদা মাটি লাগানো অবস্থায় ছিল। ফলে তাকে চেনা যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার শিকার রেজওয়ান খান শিমু’র বাবা উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য লুৎফর রহমান খাঁন অভিযোগ করেন, পূর্ব শক্রতার জের ধরে প্রতিপক্ষরাই তাঁর ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। আর ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়া চেষ্টায় তাকে বাড়ি পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। তাঁর ছেলের জ্ঞান ফিরলেই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত অবগত হয়ে আইনের আশ্রয় গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি।