নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা: দীর্ঘ ১৮ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমে শিশু অপুষ্টি, বাল্যবিবাহ, শিক্ষাবঞ্চনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে রাজধানীর ঢাকা ইস্ট এলাকায়। স্থানীয় নেতৃত্ব ও সরকারি অংশীদারদের হাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ‘ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রাম’।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী রাজধানীর বারিধারার ডি-মাজেনড সেন্টারে আয়োজিত ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠান ’২৬’-এ ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা ইস্টের ৮টি ওয়ার্ডে পরিচালিত ১৮ বছরের কার্যক্রমের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ডিরেক্টর (অপারেশন্স ও টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম) লিমা হান্না দারিং। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, “শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৮ বছরের অবদান অনস্বীকার্য। শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আশা করছি স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে এই অর্জন আরও এগিয়ে যাবে।”
তিনি শিশু ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১০-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা এবং অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জুলকার নায়ন। স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করেন কমিউনিটি প্রতিনিধি রেহেনা পারভীন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রামের সমাপনী প্রতিবেদন ও ‘সফলতার গল্প’ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন সক্রিয় কমিটির তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশন্স) চন্দন জেড গমেজ। তা গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চন্দন জেড গমেজ। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ডেপুটি ডিরেক্টর (ফিল্ড অপারেশনস—সাউদার্ন বাংলাদেশ ক্লাস্টার) জেনি মিলড্রেড ডি ক্রুজ।
শিশু, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, ইউডিসি, শিশু ফোরাম, ইউথ ফোরাম ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্মৃতিচারণ, শিশুদের পরিবেশনা ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজন শেষ হয়। ১৮ বছরের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও স্থানীয় নেতৃত্বে ঢাকা ইস্টের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে অনুষ্ঠানে।