গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সেবায় অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া কার্যালয়টিতে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনকালে ভূমি কার্যালয়ের নথিপত্র যাচাই করা হয় এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়। এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান ও আব্দুল হালিমকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে কাশিমপুর ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান ও পর্চা উত্তোলন, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ, জমির নথি যাচাইসহ বিভিন্ন সেবা পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব, অযৌক্তিক হয়রানি এবং অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন সেবাপ্রার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, দালালচক্রের মাধ্যমে কাজ করাতে বাধ্য করা, ফাইল আটকে রাখা, একই কাজের জন্য বারবার ঘুরানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে সেবা বিলম্বিত করা হতো।
এ ছাড়া অফিস চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অভিযোগের প্রতিকার না পাওয়া এবং কার্যালয়জুড়ে দালালচক্রের সক্রিয় উপস্থিতি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আকস্মিক পরিদর্শনের সময় সেবাপ্রার্থীদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং অফিসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপরই সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, কাশিমপুর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসকের এই পদক্ষেপে সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দালালমুক্ত, হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা হবে।